যুগের জিজ্ঞাসা, ইসলামের সমাধান ২

মুহা. সেলিম রেজা, শরীয়তপরু।

৫নং প্রশ্ন: জনৈক ব্যক্তি এক সময় চুর ছিল। বিভিন্ন স্থানে সে চুরি করেছে। খোদার ফজলে এ অন্যায় কাজের জন্য এখন সে অনুতপ্ত। এমন কী সে এখন ঐ চুরিকৃত বস্তু প্রকৃত মালিকের নিকট ফিরিয়ে দিতেও সম্মত। কিন্তু তার তো সেই সব মালিকের নাম/পরিচয় জানা নেই। এখন সে কি করতে পারে?

উত্তর: প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে এ ব্যক্তি প্রথমত চুরিকৃত মালের প্রকৃত মালিকের নাম/পরিচয় জেনে তাদের নিকট কিংবা কোন মালিক জীবিত না থাকলে তার উত্তরাধীকারীর নিকট ঐ মাল ফেরত দেয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। তাদের নিকট তাদের প্রাপ্য পৌছাতে ব্যর্থ হলে চুরিকৃত মালের সমপরিমান বস্তু বা তার মূল্য মালিকের নামে সদকা করে দিবে। পাশা পাশি নিজের এ কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে তওবা ও ইস্তেগফার করতে থাকবে।

উল্লেখ্য যে, এ ক্ষেত্রে পরবর্তিতে কখনো প্রকৃত মালিক পাওয়া গেলে তার পাওনা তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে। শামী: ৭/৩০১, হিন্দিয়া: ২/২৮৯, বাদায়েউস্সানায়ে: ৫/২০২

 

মুহা. আবেদ হাছান, বগুড়া।

৬নং প্রশ্ন: আমি কম্পোজ করি। অনেক সময় আমাকে সেজদার আয়াতও কম্পোজ করতে হয়। জানতে চাই মুখে উচ্চারণ না করে শুধুমাত্র কম্পোজ করলেও কী তেলাওতের সেজদা আদায় করতে হবে?

উত্তর: মুখে উচ্চারণ না করে শুধুমাত্র লিখার দ্বারা সেজদায়ে তেলাওয়াত ওয়াজিব হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত  ক্ষেত্রে আপনার তেলাওয়াতের সেজদা আদায় করতে হবে না।

আলবাহরুর রায়েক: ২/১১৮, তাতারখানিয়া: ১/৫৫৬

 

মুহা. ফুয়াদ মাহমুদ, কেন্দুয়া, নেত্রকোণা।

৭নং প্রশ্ন ঃ আমাদের সমাজে কারও হাত থেকে অসাবধানতায় কুরআন শরীফ পড়ে গেলে কুরআন শরীফের ওযন সমপরিমান বা আন্দাজ করে চাল, ডাল, লবন ইত্যাদি বস্তু সদকা করতে দেখা যায়। এটা কী ঠিক?

উত্তর ঃ কুরআন শরীফ আল্লাহর কালাম , যা অত্যান্ত সম্মানের বস্তু। তাই উহার আদব ও ইহতেরামের প্রতি খুবই যতœশীল থাকা আবশ্যক। তবে কখনো অসাবধানতা বশত: তা কারো হাত থেকে পড়ে গেলে চাল, ডাল, লবন ইত্যাদি বস্তু সদকা করার বিধান শরীয়তে নেই। বরং এক্ষেত্রে আল্লাহর নিকট তওবা-এস্তেগফার করে যাওয়াই কর্তব্য। অবশ্য কেহ যদি নিজ নফছকে শাস্তি স্বরুপ  গরীব দুংখীদের মাঝে  চাল, ডাল বা অন্য কোন বস্তু সদকা করতে চায় তাতেও দোষের কিছু নেই।

এমদাদুল ফাতওয়া খন্ড ৪/৬০

শেয়ার করুন

  • Share this post on Facebook
  • Tweet about this post
  • Share this post on Delicious
One Response to "যুগের জিজ্ঞাসা, ইসলামের সমাধান ২"
  1. Reply রবিউল ইসলাম আকাস September 16, 2019 07:34 am

    আজ থেকে দুই বছর আগে, সবেমাত্র উঠন্ত বয়স।
    ফেসবুক একটা মেয়ে আমায় প্রথম মেসেজ করে। প্রথমে বন্ধুত্ব তারপর একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেম করা তেমন কোন ইচ্ছে ছিল না, কিন্তু মেয়েটা নিজে থেকে প্রপোজ করায় রাজি হই। সাথে সাথে আম্মুকে ও জানাই ছিলাম, উনি বাধা দেয় নি, তাই দুই বছর পর্যন্ত সম্পর্কটা স্থায়ী থাকে। তারমধ্যে মা কখনো বাধা দেয়নি।

    এই দুই বছরের মধ্যে মেয়েটা এমন কিছু কাজ করছে যা সম্পূর্ণ ইসলামবিরোধী। ওকে সঠিক রাস্তায় আনার অনেক চেষ্টা করি, কিন্তু ওই মেয়ের বাবা মায়ের মেয়ের প্রতি তেমন গুরুত থাকার কারণে আমি সফল হয়নি। তাও ভালবেসে গেছি, যতটুকু সম্ভব রাজ, ঝগড়া, অভিমান, রাগান্বিত হয়ে ওকে বুজাতে চাইলাম কিন্তু পেরে উঠি নি।খুব ভালবেসে ফেলেছিলাম তাই ছাড়তেও পারি না। একটা সময় বুঝতে পারলাম আগে শুধু ইসলামবিরোধী কাজ করতো কিন্তু এখন জিনার দিকে লুপ্ত হইয়া যাইতাছে। মাথা ঠিক ছিল না তাই শয়তানের কবলে পইড়া ও যাতে অন্য কারো কাছে যেতে না পারে তার জন্য আমি নিজেই ওর কাছে চলে গেছিল। ভেবেছিলাম হয়তো তারপর আমার আর কিছু করবো না, আর আমি ওকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিলাম। কিন্তু তার পরেও ও অন্যান্য ছেলেদের সাথে ঘুরাঘুরি তারপর মজা করা ফাজলামো করা ইত্যাদি কলেজে থেকে কোন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া, একসাথে গা ঘেঁষে ছবি তোলা এসব বন্ধ করেনি। তার মধ্যে মা ওকে দেখল দেখার পরে বলতেছে ও কোন রকমই পর্দা করে না, এমন কি বাড়িতে কেউ আসলে নাকি সালাম ও দেয় না। মা একথা বলার কারণ, যেদিন মা ওদের বাসায় গেছিলো ওই দিন ও খুব বিচ্ছিরি অবস্থা ওদের বাসায় বইসা ছিল। এখন আশেপাশের মানুষদের কাছেও খারাপ হয়ে গেছে, ওকে বিয়ে করার জন্য আমি স্টিম করছিলাম। কিন্তু ওর এই চলাফেরার জন্য ওর সাথে ঝগড়া হইতে হইতে ঐ স্টাম্প ছেড়ে ফালাইছি, তার সাথে কয়েক বার ওকে নাকে দেওয়ার জন্য যে ফুল কিনে দিছিলাম তা খুলিয়ে ছি।
    অনেকবার সম্পর্ক ভেঙে গেছে ও নিজে থেকে বিয়ে করে চলে যেকে চেয়েছে, অনেক কষ্টের কারণে ফিরে আসছিলাম। আমাকে এতবার কষ্ট দিছে যা বলার বাইরে।

    কিন্তু তাকে ছাড়েনি শুধুমাত্র সাথে মিশে ছিলাম তার জন্য।
    কারন, নাই কথা কারো কাছে বলতে পারি না নিজের মনে পুষে রাখতে পারি। যে মানুষগুলি রাজি ছিল সম্পর্কটার ভিতর, এখন কেউই রাজি না শুধু আর চাল চলনা চলাফেরার কারনে, ও বলল যে সম্পর্ক রাখতে চায় না তারপর বাধ্য হয়ে আমিও বললাম যে সম্পর্ক রাখবো না।

    দুই তিন দিন না যেতেই সবকিছু মানে নেই আমার কাছে থাকার জন্য আবার ফিরে আসে, কিন্তু আমি খেতে চাইল এবার কেমন জানি মনে ব্যথা দেয়। কারন

    বর্তমান ওর বাবা রাজি না আমার কাছে বিয়ে দিতে, শুধু ওর বাবা কেন, একমাত্র ওর মা, আমি এবং ও ছাড়া কেউই চায় না এই সম্পর্কটা থাকুক। এবার প্রথম প্রশ্ন মেয়ের অভিভাবকের সাক্ষী ছাড়া বিয়ে হয় না, দ্বিতীয় আমার পরিবারের কেউ জোরে মাইনা নিব না, এবার আমি ওরে ছাড়তেও পারতাছিনা রাখতে পারতেছি না।

    মূল কথা

    দুনিয়া থেকে যেমন জাহান্নামের সার্টিফিকেট হাতে ধরাই দিছে আল্লাহ, অবশ্য সবই শয়তানের কবলে।

    ১. যদি আমি মা বাবার মনে কষ্ট দিও রে বিয়ে করি। মায়ের মনে আঘাত দেওয়ার কারণে জাহান্নামি।
    ২. যদি মেয়েকে আমি ছেড়ে দেই, তাহলে একটা মেয়ের জীবন নষ্ট করার জন্য জাহান্নামি।
    এখানে দোষ আমার এবং ইমেইল দুজনেরই আছে।

    ১, আমারটা হলো আমি ওর সাথে মিসেছি শারীরিক সম্পর্কে।
    ২. ওটা হল ও আমার একটা কথা রাখতে পারিনি ইসলাম টুকু মেনে চলতে পারে নাই। সবার চোখে খারাপ হইয়া, এখন নাকি ভুল বুঝতে পেরে সব কিছু ঠিক কইরা ইসলাম মেনে চলে আমার কাছে থাকতে চাই। কিন্তু ওর উপরে আমি বিশ্বাস করতে পারি না।

    আমি মা বাবার মনে কষ্ট দিতে চাইনা। আবার যিনাকারী হিসেবে জাহান্নামে যেতে চাই না।

    আমি ওর ভালোর জন্য সবকিছু করছি কিন্তু সব বিপরীত হয়ে গেছে। এখন যেদিকেই যাই না কেন জাহান্নাম আমার জন্য লিখিত।

    শুনছি বিয়ের আগে জেনা করলে নাকি তার ক্ষমা হয়। আমি চাই আল্লাহ যেন মেয়েটাকে ক্ষমা করে দেয় এবং হেদায়েত দান করে।

    কিন্তু আমিও জাহান্নামে যাইতে চাই না।

    আমার প্রশ্ন,

    আমি কি ওই মেয়েটাকে বিয়ে করবো না কি করবো না?

    আর এমন কি উপায় আছে যে উপায় অবলম্বন করলে আমি সব দিক থেকে মুক্তি পাব। আর সবাই জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে।

    আত্মহত্যা করতে পারব না কারণ আত্মহত্যা করা মহাপাপ।

    আমার একটা সমাধান দেন আমি কি মেয়েটাকে বিয়ে করবো,,মা বাবার মনে কষ্ট দিয়া।

    নাকি ওরে ছেড়ে দেবো । কি করলে মঙ্গল হবে ।

    কোরআন হাদিস গাটতেছি কিন্তু কোন উত্তর পাইতেছি না, কারন আমি হাফিজ না। প্লিজ উত্তরটা দেন ?

মন্তব্য করুন