পরিচিতি

শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড, উন্নতির সোপান। শিক্ষা সুশীল সমাজ বিনির্মাণের চাবিকাঠি। সুন্দর সমাজ গড়ার পূর্বশর্ত। সকল প্রকার অন্ধকার দূর করার হাতিয়ার। মহান রাব্বুল আলামীন মহানবী (সাঃ)-কে হেরা গুহায় [ইক্বরা’ বিসমি রাব্বিকাল্লাযি খালাক্ব]-এর দ্বারা যে শিক্ষা ব্যবস্থার সূচনা করেছেন, সে শিক্ষা অর্থাৎ কুরআন হাদীসের শিক্ষাই মানুষের ইহকালীন ও পরকালীণ সফলতা আনতে পারে। আমাদের দেশের প্রচলিত কওমী মাদ্রাসা এ শিক্ষা ব্যবস্থারই বাস্তব নমুনা।

অবস্থান :

ইসলামী ঐতিহ্যের নগরী বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী পূণ্যভূমি সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার গহরপুর এলাকায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরা বড়বাঘা নদীর তীরে ১৯৫৭ ইং সনে উপমহাদেশের আধ্যাত্মিক রাহবার বরেণ্য বুযুর্গ শাইখুল হাদীস আল্লামা হাফিজ নূরুদ্দীন আহমদ (গহরপুরী রহ.) সীমাহীন এখলাছ-লিল্লাহিয়াতের সহিত এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগীতায় প্রতিষ্ঠা করেন ঐতিহ্যবাহী গহরপুর জামিয়া।

আদর্শ :

জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়া গহরপুর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আদর্শভিত্তিক বৃহত্তর দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য :

এক। ইলমে দ্বীনের হেফাজত ও ব্যাপক প্রসারের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার হুকুম ও সুন্নাতে নববী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিয়মতান্ত্রিক তা’লীম ও তারবিয়াতের মাধ্যমে হক্কানী আলেম তৈরী করতঃ দেশ ও জাতির খেদমতে প্রেরণ করা।

দুই। আকায়েদে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ও ফিকহে হানাফীর সংরক্ষণ এবং কুরআন ও হাদীসের সহীহ তা’লীম-তারবিয়াতের যথাযথ বাস্তবায়ন করা।

তিন। দ্বীন ইসলামের হিফাজত, দ্বীনের উপর আঘাতকারী সকল খোদা-দ্রোহীদের প্রতিরোধ করে সমাজ থেকে নস্তিক্যবাদ, শিরক, কুফুর, বিদ‘আত ও পাপাচারের মূলোৎপাটন এবং “আমর বিল মা’রুফ ও নাহয়ি আনিল মুনকার” এর মাধ্যমে দ্বীনি তৎপরতা দ্বারা সমাজে ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠা ও সর্বস্তরে ইসলামী সমাজব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রচেষ্ঠা চালানো।

জামিয়ার শিক্ষাধারা :

জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়া” কোন গতানুগতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম নয়। সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে জামিয়া সাজিয়েছে তার পাঠদান পদ্ধতি। সুবিন্যস্ত সিলেবাসের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে মৌলিকভাবে কুরআন, হাদীস, ফিক্হ, তাফসীর, উসূল, আকাঈদ এবং বৈষয়িক পর্যায়ে আরবী সাহিত্য, বাংলা সাহিত্য, ব্যাকরণ, নাহু, সরফ, বালাগাতসহ বাংলা, ইংরেজী, গণিত, ইতিহাস, ভূগোল, দর্শন ইত্যাদি সমুদয় বিষয় প্রয়োজন পরিমাণ শিক্ষা দেওয়া হয়।

জামিয়ার শিক্ষা কার্যক্রম :

কিতাব বিভাগ : এটি জামিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় সর্বাধিক সমৃদ্ধ, বৃহত্তর ও প্রধান বিভাগ। এ বিভাগেই তৈরী হয় জাতির কান্ডারী- আধ্যাত্মিক রাহবার। দীনী শিক্ষার ক্রমমূল্যায়নের ভিত্তিতে কিতাব বিভাগটি মোট পাঁচটি স্তরে বিভক্ত। ইবতিদাইয়্যাহ (প্রাথমিক), মুতাওয়াসসিতাহ (মাধ্যমিক), সানুবিয়্যাহ উলয়া (উচ্চ মাধ্যমিক), ফযীলত (ডিগ্রী) ও তাকমীল (মাষ্টার্স)। এ ৫টি স্তরে মোট ১৪ বছর সময়ে দ্বীনী শিক্ষার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীকে যোগ্য আলেম রূপে গড়ে তোলা হয় ও সনদ প্রদান করা হয়।

হিফজুল কুরআন বিভাগ : কুরআন শরীফ নাযেরা পড়তে সক্ষম শিক্ষার্থীদেরকে এ বিভাগে স্বল্প সময়ে সম্পূর্ণ কুরআন শরীফ শুদ্ধরূপে মুখস্থ করানো হয়।

ইফতা কোর্স : দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) সমাপনকারী মেধাবী আলেমদেরকে এ বিভাগে ফিকহ স্পেশালিস্ট হিসেবে যুগ সমস্যার সঠিক সমাধান দিতে যোগ্যতা সম্পন্ন মুফতি রূপে গড়ে তোলা হয়।

আননূর ছাত্রকাফেলা :

দ্বীন ও সমাজের সকল পরিসরে জামিয়ার সন্তানরা যাতে ভূমিকা রাখতে পারে, সে জন্য রয়েছে নানামুখী আয়োজন। এসব আয়োজনকে বাস্তব রূপদানের জন্য মেধাবী ছাত্রদের নিয়ে গঠিত হয়েছে “অন্নূর ছাত্র কাফেলা” নামক ছাত্র সংসদ।

জামিয়ার ছাত্র প্রশিক্ষণ কর্মসূচী :

ছাত্র পাঠাগার : জামিয়ার সিলেবাসভূক্ত পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ছাত্রদের জ্ঞানের পরিসীমা আন্তর্জাতিক অংগনে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সমকালীন অবস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবগতির জন্য তথ্যবহুল বই-পুস্তক সমৃদ্ধ একটি পাঠাগার রয়েছে।

বক্তৃতা প্রশিক্ষণ : ইলম অর্জনের পাশাপাশি তা সুন্দর সাবলীল ভাবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ছাত্র কাফেলা আয়োজন করে সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক বক্তৃতা প্রতিযোগিতা।

দেয়ালিকা : পাশ্চাত্যমুখী বিকৃত রুচির কলম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ইসলামী সাহিত্যের নির্মল জ্যোতি বিকিরণের মহান লক্ষ্য নিয়ে ছাত্রদেরকে কলম সৈনিক রূপে গড়ে তোলার জন্য বাংলা ভাষায় নিয়মিত দেয়ালিকা প্রকাশ করা হয়ে থাকে।

দাওয়াত ও তাবলীগ : প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি নিজ আমল-আখলাককে আরো উন্নত এবং সকল স্তরের মানুষকে দ্বীনের প্রতি আহ্বান করতে নিয়মিত তাবলীগী কর্মসূচী পালন করা হয়। শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে এলাকার বিভিন্ন মসজিদ ও মহল্লায় সপ্তাহে একবার ২৪ ঘন্টার জামাত প্রেরণ করা হয়।

হাম্দ-না’ত প্রশিক্ষণ : আল্লাহ ও রাসূলপ্রেমের চির সুন্দর সুর ছড়িয়ে দিতে ছাত্র কাফেলার তত্ত্বাবধানে গঠিত হয়েছে “আননূর সাংস্কৃতিক কাফেলা”। যেখানে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের রয়েছে পরিপূর্ণ সুযোগ।

এছাড়া বিভিন্ন সময় বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

জামিয়ার সেবা প্রকল্প :

ফতওয়া বিভাগ : ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও বিভিন্ন ধরণের উদ্ভূত জটিল সমস্যার সমাধান দক্ষ মুফতি সাহেবগণ এ বিভাগ থেকেই দিয়ে থাকেন।

ফরায়েজ বিভাগ : মৃত ব্যক্তির স্থাবর- অস্থাবর সম্পত্তি ওয়ারিসদের মধ্যে শরীয়তের বিধান মোতাবেক সুষ্ঠু বন্টনের রূপরেখা এ বিভাগ থেকে প্রদান করা হয়।

উপ মহাদেশের আধ্যাত্মিক রাহবার বরেণ্য বুযুর্গ শাইখুল হাদীস আল্লামা হাফিজ নূরুদ্দীন আহমদ (গহরপুরী রহ.) প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী গহরপুর জামিয়া বর্তমানে সাবলীল গতিতে এগিয়ে চলছে তার অভীষ্ট লক্ষ্যপানে। দেশ, জাতি ও দ্বীনের কল্যাণে জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়া গহরপুরের কর্মকাণ্ড হোক গতিময় ও সাফল্যমন্ডিত। আমীন ‼

জামিয়ার বার্ষিক কার্যক্রম ডাউনলোড করুন এই লিংকে